Posts

Showing posts with the label কবিতা

দাবানল

Image
দাবানল দেবব্রত ঘোষ মলয় কিছু বলবো না আগুন জ্বলছে দেখো বাইরে মুখ খুললেই পুড়ে হব ছাইরে মাথা তুলবো না শিরদাঁড়া নুয়ে গেছে যেদিকেই দেখি সব দুর্নীতি ভরা পড়াশোনা না করেই টুকে পাস করা বুড়ি ছুঁয়ে গেছে। আমরা সবাই আজ তুমি আমি আমি তুমি আমাদের সন্তান এই বৃত্তের মাঝে সঁপেছি যে মন প্রাণ প্রতিবাদে নেই কাজ। তবে মুশকিল হলো পড়শির ঘর পোড়ে দাউ দাউ আগুনে কতজন মরে গেল পরিকল্পিত খুনে চোখটা এবার খোলো। আজ বাদে কাল ওই দাবানল গ্রাস করে নেবে সবই যা কিছু আগলে রাখি হয়ে যাবে ছবি থাকবে ছাইয়ের তাল। সময় থাকতে তাই জলভরা বালতিটা হাতে তুলে নাও সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভাও আজ এটুকুই চাই। তা না হলে আগামীর ছোটরাও ছাড়বে না ভাই।

মিতিন

Image
মিতিন দেবব্রত ঘোষ মলয় তখন হাফপ্যান্ট, মুখের কচি ভাব কাটেনি মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে একা একা ডাসা পেয়ারা লাল ফ্রকের মিতিন মাথায় দুই বিনুনি ঠিক এসে হ্যাঙলামো - এই সোনা, দিবি? দিলাম। মাথায় ঠকাস গাঁট্টা  আর জোর টান বিনুনিতে তারপর ফিরেও দেখলাম না ওর ফুঁপিয়ে কান্না নিষ্পাপ বালকরা তীব্র নিঠুর হয়। ফল মিলল বিকেলেই, গাছ থেকে পড়ে হাত দুখান ছটফট বিছানায়, ডাক্তার কাকু নির্বিকার হাড় ভাঙলে তো লাগবেই, ছি, ছেলেরা কাঁদে নাকি তারপর ঘর ফাঁকা, লাল ফ্রকের মিতিন এসেছে কি অকাতরে মুখে মাথায় বুলিয়ে দেয় হাত ওর বালিকা স্পর্শে ঘুম এসে যায় আধো ঘুমে দেখি চোখ ভরা জল আর মুখে মাখা একরাশ মায়া ... মিতিন হারিয়ে গেছে, হারিয়েছে বাঁশঝাড় বন্ধু মাঠ অষ্টমী অঞ্জলি আজকাল বুঝতেই পারি না তিনটে ওষুধ খেয়ে ঘুমের আশায় জাগি চোখে ভাসে বড় বড় জলভরা মায়ামাখা চোখ ঈশ্বর, একবার ফিরে দাও হাফপ্যান্ট বেলা ...

জনক

Image
এই কবিতাটি নিছকই মজা করে লেখা। আদতে চিরকালই বাবা-মায়ের কাছে ছেলে আর মেয়ে উভয়ই প্রাণাধিক প্রিয়। আবার চিরকালই ছেলে আর মেয়ের কাছে বাবা মা-ই সবকিছু। জনক দেবব্রত ঘোষ মলয় বাবা মানে বদলেছে মন দিয়ে শোনো এ ব্যাপারে ছেলে-মেয়ে ভেদ নেই কোন আদুরে মেয়েটি আজ লক্ষী সোনা বড় আদরের ছেলে স্বপ্নতে বোনা। সে সময় মেয়ের বাবা সে সময়ে মিনতিদি করেছিল প্রেম রাসভারি ওর বাবা বলেছিল শেম দেখবো না মুখ তোর মেয়ে নস তুই বিয়েতে পেল না মেয়ে কোন বস্তুই। আজীবন ওর বাবা রেখেছিল পণ  মেয়েকে ছাড়াই বাঁচে কঠিন সে মন। কেঁদে কেঁদে মরে গেল মিনতির মা নাতি আর পুতি হল দেখা হলো না এ সময় মেয়ের বাবা এ সময়ের এক বাবা নেটফ্লিক্স খোলা ওয়েব সিরিজে ডুবে আগাপাশতলা আদুরে কন্যা এসে গলাটি জড়িয়ে বলে, কে এফ সি চলো ড্যাড মমকেও নিয়ে। গুপ্ত কথাটি ফাঁস হলো ওইখানে পড়ায় বসে না মন বয়ফ্রেন্ড টানে মেয়েকে জড়িয়ে বাবা বলে শোন মেয়ে ভালো করে পাশ কর, ওর মুখ চেয়ে। দুজনেই পাস করে নম্বর ভালো দুজনেই চাকরিতে মুখময় আলো। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল শেষে আমাদেরও ভুরিভোজ বিয়ে বাড়ি এসে। ********** সে সময় ছেলের বাবা সে সময় সিনে...

যদি কোনোদিন

Image
যদি কোনোদিন দেবব্রত ঘোষ মলয় যদি কোনদিন ঘুম ভেঙে উঠে শোনো আমি আর আসব না স্বাভাবিক, ভালোবাসবো না চমকে উঠ না। যদি কোনদিন  কানাঘুষো শুনো আনাচে কানাচে সকালে বেরিয়ে ঘর থেকে আমি নিখোঁজ হয়েছি চিরতরে চমকে উঠো না যদি কোনদিন আস্তাকুড়ের বস্তায় খুঁজে পাও আবর্জনায় লুকিয়ে আমার লেখা কেঁদে চলে চুপি চুপি চোখ ভিজিও না যদি কোনদিন ঝড়ে উড়ে আসে দুটি পাতা সেখানে আমার মলিন হাতের লেখা উপেক্ষা করে চলে যেও অনায়াসে পাতা উল্টিও না যদি কোনদিন শ্রাবণ বিকেলে দুটি ফুল হাতে নিয়ে মনে পড়ে যায় আমার কবিতাখানি ফিরে যেও কাজে অবহেলে তক্ষুনি ঘুম ভাঙ্গিয়ো না। আলোকচিত্র সৈকত কুমার বসু

তবুও শরৎ

Image
তবুও শরৎ দেবব্রত ঘোষ মলয়  বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  টুপ টাপ ঝরে পড়ে হিমেল শিশির দেখো ঘাসের উপর ডানা ঝাপটিয়ে দেখ উড়ে যায় সাদা বক যত  দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত শেষ হয় পালানের বিলে  দুপারেই কচু গাছ উলু ঘাস আর আগাছার ঝোপ ওখানেই খেলা করি আমি হাফপ্যান্ট নেমে যায় দড়ি বাঁধা তাতে ছোট জাল হাতে নিয়ে মাছ ধরে পুঁটি, রুখু চুল চূড়া করে বাঁধা  এখানেই আটকিয়ে আমার বয়স, জটিল এ পৃথিবীর এ কেমন ধাঁধা ... বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  শরৎ সকালে মৃদু হিম পড়ে, সেজে ওঠে শিউলি তলা ঘুম ভেঙে খালি পায়ে দৌড়ে বেড়াই, দেখি শিউলি কুড়িয়ে আনে আমার বালিকা ...টেপ ফ্রক গায়ে হারানকাকার হাত দূর্গা বানায় ... চণ্ডী তলায় সে টাকায় কিনবে কি ওষুধ না ভাত আজ বলে সেইসব মধুকাকা বোল তোলে ঢাকে, এবার বায়না হলো দু বছর পর দুবছরে ভেঙে গেছে সংসার ... তছনছ হল কত ঘর ... তবুও শরৎ আসে নীল মেঘ কাশফুল সোনা রোদে ভাসে চরাচর ... শিল্পী দীননাথ সাহা 

স্বপ্ন কিশোর

Image
শিল্পী দীননাথ সাহা  স্বপ্ন কিশোর দেবব্রত ঘোষ মলয় মেঘলা আকাশ বিষন্ন দিন জল থৈ থৈ পথ আকাশ পানে তাকিয়ে রই আসবে সোনার রথ রথের মাঝে রাজকন্যা তার খোঁপায় বাঁধা ফুল কুচবরণ রূপের বাহার মেঘবরণ চুল। আলুক শালুক ঘোষের তালুক দুষ্টু কিশোর ছেলে মাঠভরা ধান সোনা রঙের এমন কোথায় মেলে সেই তো আমার গ্রাম আমার জন্মভূমি দেশ তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বলে ধুপের ধোঁয়ার রেশ পদ্ম দীঘি চন্ডীতলা মস্ত বাগান আম হ্যাচাক জলে যাত্রা আসর রাবণ এবং রাম স্কুলের শেষে খেলার মাঠে, পড়ব সাঁঝে অল্প রাত্রিবেলা দিদির পাশে শুনব ভুতের গল্প এইতো আমার গ্রাম আমার স্বর্গ বালক বেলা পাশের বাড়ির ছুটির সাথে মিষ্টি মধুর খেলা। এখন জীবন বিকেল বেলা কাঁদছে শহর ক্লান্ত মায়ের আদর বাবার স্নেহ ভালোবাসাও ম্লান তো। স্বপ্নে খুঁজি ছোটবেলা জেগেই বুঝি ভ্রান্ত। @০৩০৯২০২২

উদাসীন সৃষ্টি

Image
উদাসীন সৃষ্টি দেবব্রত ঘোষ মলয় আমার বন্ধু সৃষ্টি গতবছর যে সময়ে বৃষ্টিতে চারপাশ টইটুম্বুর দুর্গত অঞ্চলে ত্রান দিতে গিয়েছিল ও কাউকে একটাও ছবি তুলতে দেয়নি  ফেসবুকে পোস্টও করেনি একটি শব্দ একান্ত নিভৃতে মধ্যরাত্রে একলা বিছানায় সৃষ্টি কবিতা লিখত একটার পর একটা কবিতা লিখত আর ছিঁড়ে ফেলত অনায়াসে কয়েক যুগ পেরিয়ে যখন একটা কবিতা উঠে আসতো ওর কলমে আমরা অবাক হয়ে ভাবতাম সারা জীবনেও কি এরকম লেখা একটাও লিখতে পারবো। সৃষ্টি কোন সাহিত্যসভায় যেত না কিংবা সম্মেলনে আসলে ও কবিতা পাঠের আসর সভা মানপত্র স্মারক  এগুলোর নেপথ্যে যে জাল থাকে সেটা খুলতেই শেখেনি। তাতে যা হবার তাই হয় ওর স্তাবক একদমই জোটে না। সৃষ্টি কোন ফোরাম সংঘ অথবা একাডেমিতে যেত না কেউ সাহায্য চাইলে ও ছিল দরাজ দিলখোলা ও কিছুতেই বুঝতে পারত না কিভাবে জাল বুনতে হয় কিভাবে তেলা মাথায় তেল দিতে হয় না কবিতাকে হাততালি দিতে হয় সৃষ্টির প্রকাশিত বইগুলি কোন পুরস্কার পায়নি ও পুরস্কার পাওয়ার জাল সম্বন্ধেও নিতান্তই অজ্ঞ ছিল ও একজন কবির কাছে আরেকজন কবির সমালোচনা করত না ও শুধু ভালোবাসতে জানত কবিতাকে, মানুষকে গতবছর, শেষ দিকে ও খুব বি...

নতুন আলো

Image
শিল্পী দীননাথ সাহা নতুন আলো দেবব্রত ঘোষ মলয় রাত্রিকে ঘৃনা করি, ঘুমোতে চাই না আমি রাত্রির কোলে,  কালো রাত নিষ্ঠুর, তীব্র খিদের বোধ খোঁচা দিয়ে তোলে। আঁধারের রাত তবু ভালোবাসা নিয়ে রোজ একা একা আসে। এ সময় যদি কেউ সত্যি করেই রোজ থেকে যেত পাশে। তুমিই তো বলেছিলে প্রিয়তমা, শেষ হলে সব ঝড় আবার গড়বো ঘর তুলে নিয়ে ছেঁড়া কুটো খড়  সব ভুলে কেন তবে খুঁজে নিলে তীব্র আড়াল রোজ রাতে খুঁজে ফিরি আগেকার মতো সেই নতুন সকাল। প্রতিটি নতুন ভুল নতুন জন্মদিন হতে থাকে মাঝরাত ভুলের মাশুল দিয়ে ভেজা চোখ মোছে দুই হাত চারপাশে এত পোকা থিক থিক নেই শিরদাঁড়া অন্যায় মেনে নিয়ে বাটি ভরা তেল হাতে দাঁড়িয়েছে কারা ... সেদিনের সভাগৃহে আগুন ঝরিয়েছিল যত বিপ্লবী ম্যাদামারা কাঁধে ব্যাগ সুশীল সমাজ আর নির্বোধ কবি সমাজ বদল নেই তারাই পাল্টে গেল জামা বদলিয়ে আমাদের দিন কাটে ফাটা শার্ট উপবাস ছেঁড়া চটি নিয়ে। শ্রেণী খুঁজে ফিরি আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আজ কে কেমন আছে কেউ বুঝতেই পারবে না ঝকঝকে বাইরের সাজ খারাপেরও ভালো আছে শিখছি নতুন করে রোজ রেখে যাব সৃষ্টির ভরা সাজি, কোনদিন যদি কেউ করে খোঁজ। দোষারোপ নয় এসো,...

মলয়নামা

Image
  মলয়নামা  শিল্পী - দীননাথ সাহা দেবব্রত ঘোষ মলয়-এর কবিতা আমার কথা কবিতা চাইলেই লেখা যায় না। আবার লিখলেই কবিতা হয়ে ওঠে না। আমার ক্ষেত্রে আরোও একটা বাধা পত্রিকা প্রকাশ ও প্রকাশনার কাজ। নিজের লেখা চলে যায় অন্তরালে। তবুও সময়ে সময়ে লিখে ফেলি কিছু কবিতা অথবা না-কবিতা ... আর, কি আশ্চর্য, সেগুলো কিছু মানুষের ভালও লেগে যায়, জানতে পারি তাঁদের কাছ থেকেই ... এই মলয়নামাকে বলা যেতে পারে একটি কবিতার ডায়েরী ... যদি ভাল লাগে, প্রিয় পাঠক ক্লিক করতে পারেন এই লিংকে ... আর, না ভাল লাগলে উপেক্ষা করার সার্বজনীন অধিকার তো আছেই ... সবে শুরু ... ধীরে ধীরে আপলোড করব নতুন নতুন কবিতা ... সঙ্গে থাকবে গল্প, নিবন্ধ, প্রতিবেদন সহ অনান্য লেখাও। আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা শিল্পীদের, যাঁদের অসাধারণ ছবি আমি ব্যবহার করেছি আমার সাধারণ কবিতাগুলিতে ... তোমাদের মলয়

কালো গাঢ় হলে আলো জ্বলে ওঠে

Image
কালো গাঢ় হলে আলো জ্বলে ওঠে দেবব্রত ঘোষ মলয় মমি হয়ে গেছি, রক্ত মাংস হয়ে গেছে সব নষ্ট কোন স্পর্শই স্পর্শ করে না এটা নিদারুণ স্পষ্ট মান অপমান, মান সম্মান একাকার হয়ে গেছে জেগে জেগে আজ ঘুমিয়ে চলেছি তবুও তো আছি বেঁচে ... বেচেঁ কেউ নেই চারপাশে শুধু কিলবিল করে কীট মুখ নেই কারো মুখের আদল লালসায় মাখামাখি ভিক্ষাবৃত্তি জীবিকা হয়েছে লাইনেই পাতি হাত বিগলিত হেসে পদলেহনেই জুটছে পেটের ভাত। কে করে আপস বিপ্লবী কে যে মিলেমিশে একাকার মধ্য মেধার তীব্র দাপটে হারিয়েছে মেধা তার আজ যার যত নেই, তার ঢাক বাজে ততোধিক জোরে জোরে আফিম ছাড়াই ঝিমিয়ে চলেছে যুবকেরা ঘরে ঘরে। হে মৃত্যু তুমি ফিরিয়েছ মুখ তাই দেখে যাই শব খুঁজে ফিরি সেই একখানি মুখ যে করে প্রত্যাঘাত আমি চলে যাব তবু জেনে যাব আসবে নতুন ভোর নতুন ভাবনা নব প্রজন্ম ঘুচাবি তমসা ঘোর। কালো গাঢ় হলে আলো জ্বলে ওঠে  এটাই চরম সত্য ... অলঙ্করণ সিদ্ধার্থ কর্মকার

প্রতিবাদ

Image
প্রতিবাদ দেবব্রত ঘোষ মলয় প্রতিবাদ যখন একমুখী হয় প্রতিবাদ যখন তীব্র নির্বিচারে পক্ষপাতী তখন হয়তো ভাইরাল হওয়া যায় বিবেকের কাছে থেকে যেতে হয় অপবিত্র এক পাপী। দখিনা বাতাসে ভেসে আসা বিপদটা চোখে পড়ে কালবৈশাখী দেখি না আমি চোখে ঠুলি পড়া আমি এক প্রতিবাদী কবি আমার কালির রং সব এক রঙে রাঙা সব পাপ পাপ নয়, পাপেরও যে রং হয় তাই রংকানা সেজে থাকি এতোটুকু ভাঁজ নেই দাগহীন সাদা পাঞ্জাবি আমার কবিতা সব একমুখী প্রতিবাদে রাঙা ... অলঙ্করণ  দীননাথ সাহা

২৫শে বৈশাখ

Image
২৫শে বৈশাখ দেবব্রত ঘোষ মলয় আজ তোমার দিন আলোর পোকারা উজ্জ্বল আলোকে ঘিরে বৃত্তাকার ঘুরছে উপর থেকে করুণার বৃষ্টিধারা ভাসিয়ে দিচ্ছে তাদের এসব দেখে ভাবলাম একটা কবিতা লিখি তাহলেই বোধহয় তর্পণ সমাধা হবে ঠিকঠাক। কলমটা হাতে তুলে নিই আর তখনই অনুভব করি হাত অবশ কি হয়েছে কি হয়েছে খোঁজ করতে গিয়ে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম পিঠের মাঝ বরাবর শিরদাঁড়াটা তার জায়গায় নেই ... শিরদাঁড়াহীন হাত কিছুতেই ওপরে উঠে না শুধু নামতে নামতে নামতে নামতে কখন যেন হয়ে গেছি ক্ষুদ্র এক কীট কিছুতেই কিছু যায় আসে না, শুধু ছুটে ফিরি খাবারের খোঁজে ... অলঙ্করণ  দীননাথ সাহা

জন্মান্তর

Image
 জন্মান্তর দেবব্রত ঘোষ মলয় সে সময়ে ... পাশের বাড়ির রিনি, বালিকা নেহাত ওকে দেখলেই মন ভাল হয়ে যেত অনায়াসে যেমন, বোগেনভেলিয়ার গোলাপী রং দেখলেই খুশি খুশি হয়ে যেত আমার বালক দুপুর ... এখন আমার ডুপ্লেক্সের ছাদের টবে বোগেনভেলিয়া তার উজ্জ্বল আনন্দ আনন্দ রঙ কোন দাগ কাটে না আমাকে মনে করতেই দেয়না পান্তাভাতের দুপুর মায়ের একটা ডিমকে নিখুঁত করে দু ভাগ করা সেবার গ্রীষ্ম আগুন আগুন, নির্জন দুপুরে পদ্মপুকুর পেরিয়ে ঘোষদের বিরাট আমবাগানে সাদা ফ্রকের রিমি হঠাৎই দু গালে ... মনে আছে শুধু ভুলে গেছি কাবুলিওয়ালা আসবে বলে বাবার ... এখন গ্রীষ্ম দুপুর বাতানুকূল নিস্পৃহ আরাম কতকাল শুয়ে আছি কোথায় সে ঘুম ঘুম রাত আসলে, পদ্মপুকুর, ঘোষদের আমবাগান, সাদা ফ্রকের রিমি সবই স্বপ্ন ছিল অথবা পূর্বজন্ম কুয়াশায় ঘেরা ... কতদিন সাঁতার কাটি নি আমি কাজলা দীঘিতে ... ২৭ এপ্রিল ২০২২ অলঙ্করণ  দীননাথ সাহা

আমার কোন জন্ম নেই

Image
আমার কোন জন্ম নেই দেবব্রত ঘোষ মলয় আমার কোন জন্ম নেই মৃত্যুও নেই শেষ অবধি শুধুই চলা পথ সোজা নয়, থামবোও না নিরবধি তোমরা সবাই ভালোবাসো, তোমরা বড়ই ভালো যে আমার শুধুই গুণ দেখে যাও, দেখো না সব কালোকে। চৈত্রশেষের ঝরাপাতা ডাক দিয়ে যায় সবুজকে মলয় বাতাস এলোমেলো তবু প্রশ্রয় দাও অবুঝকেই  সব কামনা শুভ বড়ই সব স্নেহ দেয় আশীর্বাদ তবুও জেনো শেষের সে দিন জীবন থেকে হয় না বাদ। আমার তাতে বয়েই গেছে দেখব কেন দূর অত? আজকের এই দিনটা সোনা, বলব কালো দূর হ তো লিখব নতুন গল্প কথা পড়ব নতুন কবিতাও  গান শুনে আর কাজের মাঝে আঁকবো তোমার ছবিটাও রাত্রি এলেই ঘুমিয়ে যাব হয়ত পাব নতুন ভোর হয়ত সকাল মলয় বাতাস ভাঙছে না তার ঘুমের ঘোর। ঘুম যদি না ভেঙে উঠি ভয় কি তাতে মাঝরাতে করব যাপন আজ দাপিয়ে জড়িয়ে ধরে দুই হাতে। জন্মদিনের অর্থ কি আর সব সকালই উদযাপন নতুন সৃষ্টি জন্ম নিলেই সার্থক হয় সেই যাপন তোমরা যারা ভালোবাসো শুভ ইচ্ছা একটাই থাক সৃষ্টি যেন না থেমে যায় স্থবিরতা দূর হয়ে যাক। কি পাইনি কি পেয়েছি কিইবা তাতে যায় আসে দুঃখ-বিপদ আনন্দতেও তোমরা আছো চারপাশে আজকের এই দিনটা জেনো একলা মোটেই নয় আমার তোমরা সবাই পা...

জ্যাঠাইমা

Image
জ্যাঠাইমা দেবব্রত ঘোষ মলয় প্রথম দেখা গ্রামের পথে নীল আকাশের অনেক নিচে সেই যেখানে লক্ষ্য হ্যাজাক আলোর বাতি সেই বাড়িতেই বরের সাজে আসনপিঁড়ি  প্রথা মাফিক বিয়ের পরে সম্প্রদান আর আশীর্বাদ যেমন ঘটে মায়ের পাশে মায়ের মতই সুন্দরী এক প্রৌঢ়া মা যে জানতে পারি সবার বড় জ্যাঠাইমা এই বাড়িতে ... আস্তে আস্তে অপর বাড়ি কখন হলো আপন আমার ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়জন কখন যেন আত্তীকরণ এত বছর একই রকম দেখছি তোমায় অবাক হয়ে আজকে হঠাৎ কিসের টানে সব ছেড়ে যাও এমন ভাবে জানি জানি যাবার পরে কেউ ফেরে না এ পথ দিয়ে তবুও মন মানে না যে আপন হওয়া মানুষটাকে ছাড়তে হবেই ছেড়ে দেওয়াই এই দুনিয়ার নিয়ম কঠিন যেথায় থাকো ভালো থাকো যেমন ছিলে এই এখানেই। আজ  সকালে তোমার বিদায় মনটা ভারি হয়েই আছে তবুও জীবন এগিয়ে যাবে, মেনে নিয়েই চলতে হবে জন্ম বড় অনিশ্চিত মৃত্যু কিন্তু সুনির্দিষ্ট যাবার পরে কেউ ফেরেনা প্রণাম নিও জ্যাঠাইমা গো ... PC Debarati Mitra Basak  ২৬ মে ২০২২ আলোকচিত্র  দেবারতি মিত্র

সেদিনও চৈত্রমাস

Image
সেদিনও চৈত্রমাস দেবব্রত ঘোষ মলয় সেদিনও চৈত্রমাস নির্ঘুম বসন্ত রাত পাতাঝরা কান্নায় ভেজা যে হাত ভরসা ছিল ঘুম ভেঙে সেই হাত খোঁজা এখন নিভৃতবাস ... ভালবাসা খাঁটি ছিল দু হাতে জড়িয়ে ধরে ভরসার চোখে পণ ছিল আজীবন ছাড়ব না তোকে সব কেড়ে নিল ... ভুলে গেলি সব নির্জন দুপুরের সোনারং গান মধুমাখা বিকেলের প্রাণ আনচান কোকিলের কুহুরব ... চৈতি হাওয়াও ছিল নির্জন চিলেকোঠা তুই আর আমি শুধু না জানা প্রথম চুমু পরাগেরও এত মধু প্রাণ ভরিয়ে দিল। ক্ষোভ নেই কোন তোকে ছাড়া নির্জন হয়নি এ গ্রহ দাঁড়িয়েছি ঘুরে আজ সয়ে নিগ্রহ কান পেতে শোনো এসেছে নতুন ভোর ভাঙ্গা বেহালায় সুর তুলেছি আবার বেঁধেছি নতুন গান, জুড়ে ছেঁড়া তার  হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে সব স্মৃতি তোর। ৩০ মার্চ ২০২৩ অলঙ্করণ  সিদ্ধার্থ কর্মকার

মৃতবৎ

Image
মৃতবৎ দেবব্রত ঘোষ মলয় একবার কিভাবে যেন ঈশান কোণে রাঙা ঝড় উঠেছিল অনাচার দেখে গর্জে উঠেছিল নিশ্চিন্তপুরবাসী  ফলশ্রুতি কিনু গোয়ালিনীর গোয়ালে লেলিহান শিখা  চোদ্দ বছরের অনূঢ়া বালিকা রিনি হারিয়ে গিয়েছিল দেনার দায়ে অনেকগুলো বাবা আত্নহত্যা করেছিল। এখন অনাচার না থাকাটাই ডুমুরের ফুল হয়ে উঠেছে। চারপাশে পদদলিত মানুষ, ঝলসানো ঘরবাড়ি কচি মাংস লোলুপ হিংস্র শিকারি তীব্র উল্লাসে আর চাটুকার দালাল পদলেহনকারী হা হা হাসে সব দেখে চোখ বন্ধ করি এখন, যেমন মৃতদেহ করে... ২০ এপ্রিল ২০২২ অলঙ্করণ  সিদ্ধার্থ কর্মকার