উদাসীন সৃষ্টি

উদাসীন সৃষ্টি
দেবব্রত ঘোষ মলয়


আমার বন্ধু সৃষ্টি
গতবছর যে সময়ে বৃষ্টিতে চারপাশ টইটুম্বুর
দুর্গত অঞ্চলে ত্রান দিতে গিয়েছিল ও
কাউকে একটাও ছবি তুলতে দেয়নি 
ফেসবুকে পোস্টও করেনি একটি শব্দ

একান্ত নিভৃতে মধ্যরাত্রে একলা বিছানায় সৃষ্টি কবিতা লিখত
একটার পর একটা কবিতা লিখত আর ছিঁড়ে ফেলত অনায়াসে
কয়েক যুগ পেরিয়ে যখন একটা কবিতা উঠে আসতো ওর কলমে
আমরা অবাক হয়ে ভাবতাম সারা জীবনেও কি এরকম লেখা একটাও লিখতে পারবো।

সৃষ্টি কোন সাহিত্যসভায় যেত না কিংবা সম্মেলনে
আসলে ও কবিতা পাঠের আসর সভা মানপত্র স্মারক 
এগুলোর নেপথ্যে যে জাল থাকে সেটা খুলতেই শেখেনি।
তাতে যা হবার তাই হয় ওর স্তাবক একদমই জোটে না।

সৃষ্টি কোন ফোরাম সংঘ অথবা একাডেমিতে যেত না
কেউ সাহায্য চাইলে ও ছিল দরাজ দিলখোলা
ও কিছুতেই বুঝতে পারত না কিভাবে জাল বুনতে হয়
কিভাবে তেলা মাথায় তেল দিতে হয় না কবিতাকে হাততালি দিতে হয়

সৃষ্টির প্রকাশিত বইগুলি কোন পুরস্কার পায়নি
ও পুরস্কার পাওয়ার জাল সম্বন্ধেও নিতান্তই অজ্ঞ ছিল
ও একজন কবির কাছে আরেকজন কবির সমালোচনা করত না
ও শুধু ভালোবাসতে জানত কবিতাকে, মানুষকে

গতবছর, শেষ দিকে ও খুব বিমর্ষ থাকত মনমরা
অনেক কিছুই মানতে পারত না আমাদের চারপাশে
রাত জাগা, চা আর কবিতাকে নিয়েই কাটাকুটি খেলতো
একা একাই ও জয় করত এভারেস্ট খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

হাততালি গালাগালির তোয়াক্কা করত না কোনদিনই 
শুধু মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ত সব ভুলে অনায়াসে
ফেসবুকে থেকেও ওর বৈরাগী নির্লিপ্ততা ঈর্ষা জাগাত
মধ্য মেধার কবির প্লাবনে ও আড়ালে সরে যেত ধীরে ...

গত বছরের শেষে একদিন ঝলমলে সকালেই চলে গেল
কাউকেই কিছু টের পেতে দিল না অনায়াস দক্ষতায়
কান্না আর রবীন্দ্রগানে ওকে বিদায় দিলাম আমরা
সে সময়ও ওর বুদ্ধিমান হাসিতে মিশে ছিল তীব্র ব্যঙ্গ

শেষ অবধি জিতে গেল ওর নির্লিপ্ত উদাসীন কবিতা ...

২৪ ০৮ ২২

Comments