Posts

যদি কোনোদিন

Image
যদি কোনোদিন দেবব্রত ঘোষ মলয় যদি কোনদিন ঘুম ভেঙে উঠে শোনো আমি আর আসব না স্বাভাবিক, ভালোবাসবো না চমকে উঠ না। যদি কোনদিন  কানাঘুষো শুনো আনাচে কানাচে সকালে বেরিয়ে ঘর থেকে আমি নিখোঁজ হয়েছি চিরতরে চমকে উঠো না যদি কোনদিন আস্তাকুড়ের বস্তায় খুঁজে পাও আবর্জনায় লুকিয়ে আমার লেখা কেঁদে চলে চুপি চুপি চোখ ভিজিও না যদি কোনদিন ঝড়ে উড়ে আসে দুটি পাতা সেখানে আমার মলিন হাতের লেখা উপেক্ষা করে চলে যেও অনায়াসে পাতা উল্টিও না যদি কোনদিন শ্রাবণ বিকেলে দুটি ফুল হাতে নিয়ে মনে পড়ে যায় আমার কবিতাখানি ফিরে যেও কাজে অবহেলে তক্ষুনি ঘুম ভাঙ্গিয়ো না। আলোকচিত্র সৈকত কুমার বসু

নদী, গ্রাম প্রকৃতি, মন্দির এবং দূর্গা ঠাকুর আনয়ন

Image
  নদী, গ্রাম প্রকৃতি, মন্দির এবং দূর্গা ঠাকুর আনয়ন  দেবব্রত ঘোষ মলয় আজ মহালয়া। একদম ভোরে ঘুম ভাঙলো মহিষাসুরমর্দিনীর সেই চিরাচরিত মিঠে সুরে। আমাদের বাগানের শিউলি তলায় এখনো সেভাবে শিউলি হয়নি, কিন্তু সেই ভোরেই আমার নাকে কোথা থেকে শিউলির গন্ধ ভেসে এলো। আজ পত্রিকা এবং প্রকাশনের কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। বাড়ির পাশেই আমাদের সোসাইটির পুজো "বন্ধুরা"। পুজোকমিটির প্রথম বছরের প্রথম সভায় সবার সমর্থনে এ নাম আমারই দেওয়া, কারণ আমরা বেশ কিছু বন্ধু একত্রিত হয়ে এই পুজোর সূচনা করি। এ বছর আমাদের প্রতিমা শিল্পী দিব্যেন্দুর স্টুডিও থেকে। ওর স্টুডিও আমতার এক নিরিবিলি গ্রাম সোমেশ্বর সোমনাথ-এ। তরুণ শিল্পী দিব্যেন্দুর বাড়িতে (ওর স্টুডিও গ্যালারি অসেচনক) বেশ কয়েকটি পুজো কমিটির ভিড়, বাড়ির সামনের মাঠটি গাড়িতে গাড়িতে ছয়লাপ। পুরুষ মহিলা মিলিয়ে আমাদের প্রায় ৫০ জন সদস্য উপস্থিত হয়েছিল ঠাকুর আনতে। আমি আমার দাদা এবং আমাদের কমিটির এক সদস্য সিদ্ধার্থ আমার বন্ধু স্বপনের গাড়িতে গিয়েছিলাম। অন্য কমিটিগুলি যখন গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে এক এক করে তাদের প্রতিমাগুলি নিয়ে যাচ্ছে সে সময় আমাদের অপেক্ষা করত...

তবুও শরৎ

Image
তবুও শরৎ দেবব্রত ঘোষ মলয়  বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  টুপ টাপ ঝরে পড়ে হিমেল শিশির দেখো ঘাসের উপর ডানা ঝাপটিয়ে দেখ উড়ে যায় সাদা বক যত  দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত শেষ হয় পালানের বিলে  দুপারেই কচু গাছ উলু ঘাস আর আগাছার ঝোপ ওখানেই খেলা করি আমি হাফপ্যান্ট নেমে যায় দড়ি বাঁধা তাতে ছোট জাল হাতে নিয়ে মাছ ধরে পুঁটি, রুখু চুল চূড়া করে বাঁধা  এখানেই আটকিয়ে আমার বয়স, জটিল এ পৃথিবীর এ কেমন ধাঁধা ... বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  শরৎ সকালে মৃদু হিম পড়ে, সেজে ওঠে শিউলি তলা ঘুম ভেঙে খালি পায়ে দৌড়ে বেড়াই, দেখি শিউলি কুড়িয়ে আনে আমার বালিকা ...টেপ ফ্রক গায়ে হারানকাকার হাত দূর্গা বানায় ... চণ্ডী তলায় সে টাকায় কিনবে কি ওষুধ না ভাত আজ বলে সেইসব মধুকাকা বোল তোলে ঢাকে, এবার বায়না হলো দু বছর পর দুবছরে ভেঙে গেছে সংসার ... তছনছ হল কত ঘর ... তবুও শরৎ আসে নীল মেঘ কাশফুল সোনা রোদে ভাসে চরাচর ... শিল্পী দীননাথ সাহা 

শিক্ষক দিবস

শিক্ষক দিবস এবং কয়েকটি কথা দেবব্রত ঘোষ মলয় আমি শিক্ষক হইনি। যদিও সে সম্ভাবনা ছিল ছোট থেকেই। তখন নবম শ্রেণী। বাড়িতে অভাব। সে সময় অনেক বাড়িতেই এরকম হতো। তখন স্কুলে নামমাত্র মাইনে ছিল সেটাও তিনমাস বাকি পড়ে গেল। বাবার অফিস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, হেডস্যার ডেকে বললেন - মন দিয়ে পড়াশোনা কর, এখন থেকে হাফ ফ্রিতে পড়াশোনা করবি। অর্থাৎ ওই সামান্য বেতনেরও অর্ধেক মাস্টারমশায় মুকুব করে দিলেন। মন দিয়ে পড়াশোনা করতাম, তবে পাঠ্যপুস্তক ততটা নয়, যতটা নানা ধরনের সাহিত্যের বই। সে প্রসঙ্গ অন্য সময়। সে সময়ে আমার বন্ধুরাও কেউ কেউ টিউশনি করে। একজন বলল - "তুই একটা টিউশনি করবি।" আমি তো এক পায়ে খাড়া। তখনো পর্যন্ত নিজের রোজগার বলতে একমাত্র স্কুলে এনসিসি করে অল্প কটা টাকা হাতে এসেছিল। সেটা সম্ভবত ওই এনসিসির পোশাকের মেইনটেনেন্স এর জন্য। সে কি আনন্দ আমার আর আমার পিঠ পিঠি ভাইয়ের। স্কুলের ঠিক উল্টো দিকেই তখন পাড়ার একমাত্র মিঠাই এর দোকান। দুজনে মিলে কাঁচের শোকেস থেকে বেছে বেছে পাঁচটা ছয়টা করে মিষ্টি খেয়েছিলাম নানা রকম। এখনকার ছোটরা না চাইতেই কি সহজে সবকিছু পেয়ে যায়, তারা কল্পনাও করতে পারবে না ...

স্বপ্ন কিশোর

Image
শিল্পী দীননাথ সাহা  স্বপ্ন কিশোর দেবব্রত ঘোষ মলয় মেঘলা আকাশ বিষন্ন দিন জল থৈ থৈ পথ আকাশ পানে তাকিয়ে রই আসবে সোনার রথ রথের মাঝে রাজকন্যা তার খোঁপায় বাঁধা ফুল কুচবরণ রূপের বাহার মেঘবরণ চুল। আলুক শালুক ঘোষের তালুক দুষ্টু কিশোর ছেলে মাঠভরা ধান সোনা রঙের এমন কোথায় মেলে সেই তো আমার গ্রাম আমার জন্মভূমি দেশ তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বলে ধুপের ধোঁয়ার রেশ পদ্ম দীঘি চন্ডীতলা মস্ত বাগান আম হ্যাচাক জলে যাত্রা আসর রাবণ এবং রাম স্কুলের শেষে খেলার মাঠে, পড়ব সাঁঝে অল্প রাত্রিবেলা দিদির পাশে শুনব ভুতের গল্প এইতো আমার গ্রাম আমার স্বর্গ বালক বেলা পাশের বাড়ির ছুটির সাথে মিষ্টি মধুর খেলা। এখন জীবন বিকেল বেলা কাঁদছে শহর ক্লান্ত মায়ের আদর বাবার স্নেহ ভালোবাসাও ম্লান তো। স্বপ্নে খুঁজি ছোটবেলা জেগেই বুঝি ভ্রান্ত। @০৩০৯২০২২

উদাসীন সৃষ্টি

Image
উদাসীন সৃষ্টি দেবব্রত ঘোষ মলয় আমার বন্ধু সৃষ্টি গতবছর যে সময়ে বৃষ্টিতে চারপাশ টইটুম্বুর দুর্গত অঞ্চলে ত্রান দিতে গিয়েছিল ও কাউকে একটাও ছবি তুলতে দেয়নি  ফেসবুকে পোস্টও করেনি একটি শব্দ একান্ত নিভৃতে মধ্যরাত্রে একলা বিছানায় সৃষ্টি কবিতা লিখত একটার পর একটা কবিতা লিখত আর ছিঁড়ে ফেলত অনায়াসে কয়েক যুগ পেরিয়ে যখন একটা কবিতা উঠে আসতো ওর কলমে আমরা অবাক হয়ে ভাবতাম সারা জীবনেও কি এরকম লেখা একটাও লিখতে পারবো। সৃষ্টি কোন সাহিত্যসভায় যেত না কিংবা সম্মেলনে আসলে ও কবিতা পাঠের আসর সভা মানপত্র স্মারক  এগুলোর নেপথ্যে যে জাল থাকে সেটা খুলতেই শেখেনি। তাতে যা হবার তাই হয় ওর স্তাবক একদমই জোটে না। সৃষ্টি কোন ফোরাম সংঘ অথবা একাডেমিতে যেত না কেউ সাহায্য চাইলে ও ছিল দরাজ দিলখোলা ও কিছুতেই বুঝতে পারত না কিভাবে জাল বুনতে হয় কিভাবে তেলা মাথায় তেল দিতে হয় না কবিতাকে হাততালি দিতে হয় সৃষ্টির প্রকাশিত বইগুলি কোন পুরস্কার পায়নি ও পুরস্কার পাওয়ার জাল সম্বন্ধেও নিতান্তই অজ্ঞ ছিল ও একজন কবির কাছে আরেকজন কবির সমালোচনা করত না ও শুধু ভালোবাসতে জানত কবিতাকে, মানুষকে গতবছর, শেষ দিকে ও খুব বি...

আনন দাস

Image
(ছবি - ইন্টারনেট) আনন দেবব্রত ঘোষ মলয় প্রতিদিনের অভ্যাস মত বিকেল আর সন্ধ্যের মাঝামাঝি সময়টা ছাদে পায়চারি করছিলাম। ছাদ আমার কাছে এক বিস্ময়কর জায়গা, যেখানে যুগপৎ বাড়িতেও থাকা যায় আবার বাড়ির বাইরেও থাকা যায়। ছাদের পশ্চিম দিকে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম ছোট্ট পুকুরের উপর সবুজ পানার উপর কি নিশ্চিন্ত মনে একটা মাছরাঙ্গা পাখি ওত পেতে আছে মাছের প্রতীক্ষায়। পুকুরটার ঠিক ওপারেই একটা ঘন বাঁশঝাড়। এত দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে একটা বড় মাকড়সার জাল তাতে ধরা পড়েছে একটা পোকা। পুকুরটার ঠিক উপর দিয়ে ঝটপট করে এক ঝাঁক পায়রা উড়ে এসে আমাদের ছাদে জলের ট্যাংক এর উপর বসে বকবকম করতে লাগলো। বেশ কয়েকটা ঘুড়ি এসে পড়েছে ছাদে যার সুতোটা ওই পুকুরের উপর দিয়ে বাঁশগাছ অবধি বিস্তৃত। এখন এই সুতোগুলো আর সুতো নয় সিনথেটিক, তার উপর কড়া মাঞ্জা, লোকমুখে চিনা মাঞ্জা। ফলে অনেক পশু পাখি এই সুতো তাদের গায়ে লেগে আহত হচ্ছে। এই সময়টা আমাদের পশ্চিম দিকের বাগানের গাছে অনেক পাখ পাখালির সমাবেশ হয়েছে। তাই আমি এই ধেরে বয়সেও ওই মাঞ্জা দেওয়া সিনথেটিক সুতোটাকে একটা ছোট কাঠের টুকরাতে গুটোতে শুরু করলাম এবং গুটাতে গুটাতে এ...