Posts

Showing posts from June, 2022

মলয়নামা

Image
  মলয়নামা  শিল্পী - দীননাথ সাহা দেবব্রত ঘোষ মলয়-এর কবিতা আমার কথা কবিতা চাইলেই লেখা যায় না। আবার লিখলেই কবিতা হয়ে ওঠে না। আমার ক্ষেত্রে আরোও একটা বাধা পত্রিকা প্রকাশ ও প্রকাশনার কাজ। নিজের লেখা চলে যায় অন্তরালে। তবুও সময়ে সময়ে লিখে ফেলি কিছু কবিতা অথবা না-কবিতা ... আর, কি আশ্চর্য, সেগুলো কিছু মানুষের ভালও লেগে যায়, জানতে পারি তাঁদের কাছ থেকেই ... এই মলয়নামাকে বলা যেতে পারে একটি কবিতার ডায়েরী ... যদি ভাল লাগে, প্রিয় পাঠক ক্লিক করতে পারেন এই লিংকে ... আর, না ভাল লাগলে উপেক্ষা করার সার্বজনীন অধিকার তো আছেই ... সবে শুরু ... ধীরে ধীরে আপলোড করব নতুন নতুন কবিতা ... সঙ্গে থাকবে গল্প, নিবন্ধ, প্রতিবেদন সহ অনান্য লেখাও। আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা শিল্পীদের, যাঁদের অসাধারণ ছবি আমি ব্যবহার করেছি আমার সাধারণ কবিতাগুলিতে ... তোমাদের মলয়

কালো গাঢ় হলে আলো জ্বলে ওঠে

Image
কালো গাঢ় হলে আলো জ্বলে ওঠে দেবব্রত ঘোষ মলয় মমি হয়ে গেছি, রক্ত মাংস হয়ে গেছে সব নষ্ট কোন স্পর্শই স্পর্শ করে না এটা নিদারুণ স্পষ্ট মান অপমান, মান সম্মান একাকার হয়ে গেছে জেগে জেগে আজ ঘুমিয়ে চলেছি তবুও তো আছি বেঁচে ... বেচেঁ কেউ নেই চারপাশে শুধু কিলবিল করে কীট মুখ নেই কারো মুখের আদল লালসায় মাখামাখি ভিক্ষাবৃত্তি জীবিকা হয়েছে লাইনেই পাতি হাত বিগলিত হেসে পদলেহনেই জুটছে পেটের ভাত। কে করে আপস বিপ্লবী কে যে মিলেমিশে একাকার মধ্য মেধার তীব্র দাপটে হারিয়েছে মেধা তার আজ যার যত নেই, তার ঢাক বাজে ততোধিক জোরে জোরে আফিম ছাড়াই ঝিমিয়ে চলেছে যুবকেরা ঘরে ঘরে। হে মৃত্যু তুমি ফিরিয়েছ মুখ তাই দেখে যাই শব খুঁজে ফিরি সেই একখানি মুখ যে করে প্রত্যাঘাত আমি চলে যাব তবু জেনে যাব আসবে নতুন ভোর নতুন ভাবনা নব প্রজন্ম ঘুচাবি তমসা ঘোর। কালো গাঢ় হলে আলো জ্বলে ওঠে  এটাই চরম সত্য ... অলঙ্করণ সিদ্ধার্থ কর্মকার

প্রতিবাদ

Image
প্রতিবাদ দেবব্রত ঘোষ মলয় প্রতিবাদ যখন একমুখী হয় প্রতিবাদ যখন তীব্র নির্বিচারে পক্ষপাতী তখন হয়তো ভাইরাল হওয়া যায় বিবেকের কাছে থেকে যেতে হয় অপবিত্র এক পাপী। দখিনা বাতাসে ভেসে আসা বিপদটা চোখে পড়ে কালবৈশাখী দেখি না আমি চোখে ঠুলি পড়া আমি এক প্রতিবাদী কবি আমার কালির রং সব এক রঙে রাঙা সব পাপ পাপ নয়, পাপেরও যে রং হয় তাই রংকানা সেজে থাকি এতোটুকু ভাঁজ নেই দাগহীন সাদা পাঞ্জাবি আমার কবিতা সব একমুখী প্রতিবাদে রাঙা ... অলঙ্করণ  দীননাথ সাহা

২৫শে বৈশাখ

Image
২৫শে বৈশাখ দেবব্রত ঘোষ মলয় আজ তোমার দিন আলোর পোকারা উজ্জ্বল আলোকে ঘিরে বৃত্তাকার ঘুরছে উপর থেকে করুণার বৃষ্টিধারা ভাসিয়ে দিচ্ছে তাদের এসব দেখে ভাবলাম একটা কবিতা লিখি তাহলেই বোধহয় তর্পণ সমাধা হবে ঠিকঠাক। কলমটা হাতে তুলে নিই আর তখনই অনুভব করি হাত অবশ কি হয়েছে কি হয়েছে খোঁজ করতে গিয়ে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম পিঠের মাঝ বরাবর শিরদাঁড়াটা তার জায়গায় নেই ... শিরদাঁড়াহীন হাত কিছুতেই ওপরে উঠে না শুধু নামতে নামতে নামতে নামতে কখন যেন হয়ে গেছি ক্ষুদ্র এক কীট কিছুতেই কিছু যায় আসে না, শুধু ছুটে ফিরি খাবারের খোঁজে ... অলঙ্করণ  দীননাথ সাহা

জন্মান্তর

Image
 জন্মান্তর দেবব্রত ঘোষ মলয় সে সময়ে ... পাশের বাড়ির রিনি, বালিকা নেহাত ওকে দেখলেই মন ভাল হয়ে যেত অনায়াসে যেমন, বোগেনভেলিয়ার গোলাপী রং দেখলেই খুশি খুশি হয়ে যেত আমার বালক দুপুর ... এখন আমার ডুপ্লেক্সের ছাদের টবে বোগেনভেলিয়া তার উজ্জ্বল আনন্দ আনন্দ রঙ কোন দাগ কাটে না আমাকে মনে করতেই দেয়না পান্তাভাতের দুপুর মায়ের একটা ডিমকে নিখুঁত করে দু ভাগ করা সেবার গ্রীষ্ম আগুন আগুন, নির্জন দুপুরে পদ্মপুকুর পেরিয়ে ঘোষদের বিরাট আমবাগানে সাদা ফ্রকের রিমি হঠাৎই দু গালে ... মনে আছে শুধু ভুলে গেছি কাবুলিওয়ালা আসবে বলে বাবার ... এখন গ্রীষ্ম দুপুর বাতানুকূল নিস্পৃহ আরাম কতকাল শুয়ে আছি কোথায় সে ঘুম ঘুম রাত আসলে, পদ্মপুকুর, ঘোষদের আমবাগান, সাদা ফ্রকের রিমি সবই স্বপ্ন ছিল অথবা পূর্বজন্ম কুয়াশায় ঘেরা ... কতদিন সাঁতার কাটি নি আমি কাজলা দীঘিতে ... ২৭ এপ্রিল ২০২২ অলঙ্করণ  দীননাথ সাহা

আমার কোন জন্ম নেই

Image
আমার কোন জন্ম নেই দেবব্রত ঘোষ মলয় আমার কোন জন্ম নেই মৃত্যুও নেই শেষ অবধি শুধুই চলা পথ সোজা নয়, থামবোও না নিরবধি তোমরা সবাই ভালোবাসো, তোমরা বড়ই ভালো যে আমার শুধুই গুণ দেখে যাও, দেখো না সব কালোকে। চৈত্রশেষের ঝরাপাতা ডাক দিয়ে যায় সবুজকে মলয় বাতাস এলোমেলো তবু প্রশ্রয় দাও অবুঝকেই  সব কামনা শুভ বড়ই সব স্নেহ দেয় আশীর্বাদ তবুও জেনো শেষের সে দিন জীবন থেকে হয় না বাদ। আমার তাতে বয়েই গেছে দেখব কেন দূর অত? আজকের এই দিনটা সোনা, বলব কালো দূর হ তো লিখব নতুন গল্প কথা পড়ব নতুন কবিতাও  গান শুনে আর কাজের মাঝে আঁকবো তোমার ছবিটাও রাত্রি এলেই ঘুমিয়ে যাব হয়ত পাব নতুন ভোর হয়ত সকাল মলয় বাতাস ভাঙছে না তার ঘুমের ঘোর। ঘুম যদি না ভেঙে উঠি ভয় কি তাতে মাঝরাতে করব যাপন আজ দাপিয়ে জড়িয়ে ধরে দুই হাতে। জন্মদিনের অর্থ কি আর সব সকালই উদযাপন নতুন সৃষ্টি জন্ম নিলেই সার্থক হয় সেই যাপন তোমরা যারা ভালোবাসো শুভ ইচ্ছা একটাই থাক সৃষ্টি যেন না থেমে যায় স্থবিরতা দূর হয়ে যাক। কি পাইনি কি পেয়েছি কিইবা তাতে যায় আসে দুঃখ-বিপদ আনন্দতেও তোমরা আছো চারপাশে আজকের এই দিনটা জেনো একলা মোটেই নয় আমার তোমরা সবাই পা...

জ্যাঠাইমা

Image
জ্যাঠাইমা দেবব্রত ঘোষ মলয় প্রথম দেখা গ্রামের পথে নীল আকাশের অনেক নিচে সেই যেখানে লক্ষ্য হ্যাজাক আলোর বাতি সেই বাড়িতেই বরের সাজে আসনপিঁড়ি  প্রথা মাফিক বিয়ের পরে সম্প্রদান আর আশীর্বাদ যেমন ঘটে মায়ের পাশে মায়ের মতই সুন্দরী এক প্রৌঢ়া মা যে জানতে পারি সবার বড় জ্যাঠাইমা এই বাড়িতে ... আস্তে আস্তে অপর বাড়ি কখন হলো আপন আমার ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়জন কখন যেন আত্তীকরণ এত বছর একই রকম দেখছি তোমায় অবাক হয়ে আজকে হঠাৎ কিসের টানে সব ছেড়ে যাও এমন ভাবে জানি জানি যাবার পরে কেউ ফেরে না এ পথ দিয়ে তবুও মন মানে না যে আপন হওয়া মানুষটাকে ছাড়তে হবেই ছেড়ে দেওয়াই এই দুনিয়ার নিয়ম কঠিন যেথায় থাকো ভালো থাকো যেমন ছিলে এই এখানেই। আজ  সকালে তোমার বিদায় মনটা ভারি হয়েই আছে তবুও জীবন এগিয়ে যাবে, মেনে নিয়েই চলতে হবে জন্ম বড় অনিশ্চিত মৃত্যু কিন্তু সুনির্দিষ্ট যাবার পরে কেউ ফেরেনা প্রণাম নিও জ্যাঠাইমা গো ... PC Debarati Mitra Basak  ২৬ মে ২০২২ আলোকচিত্র  দেবারতি মিত্র

সেদিনও চৈত্রমাস

Image
সেদিনও চৈত্রমাস দেবব্রত ঘোষ মলয় সেদিনও চৈত্রমাস নির্ঘুম বসন্ত রাত পাতাঝরা কান্নায় ভেজা যে হাত ভরসা ছিল ঘুম ভেঙে সেই হাত খোঁজা এখন নিভৃতবাস ... ভালবাসা খাঁটি ছিল দু হাতে জড়িয়ে ধরে ভরসার চোখে পণ ছিল আজীবন ছাড়ব না তোকে সব কেড়ে নিল ... ভুলে গেলি সব নির্জন দুপুরের সোনারং গান মধুমাখা বিকেলের প্রাণ আনচান কোকিলের কুহুরব ... চৈতি হাওয়াও ছিল নির্জন চিলেকোঠা তুই আর আমি শুধু না জানা প্রথম চুমু পরাগেরও এত মধু প্রাণ ভরিয়ে দিল। ক্ষোভ নেই কোন তোকে ছাড়া নির্জন হয়নি এ গ্রহ দাঁড়িয়েছি ঘুরে আজ সয়ে নিগ্রহ কান পেতে শোনো এসেছে নতুন ভোর ভাঙ্গা বেহালায় সুর তুলেছি আবার বেঁধেছি নতুন গান, জুড়ে ছেঁড়া তার  হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে সব স্মৃতি তোর। ৩০ মার্চ ২০২৩ অলঙ্করণ  সিদ্ধার্থ কর্মকার

মৃতবৎ

Image
মৃতবৎ দেবব্রত ঘোষ মলয় একবার কিভাবে যেন ঈশান কোণে রাঙা ঝড় উঠেছিল অনাচার দেখে গর্জে উঠেছিল নিশ্চিন্তপুরবাসী  ফলশ্রুতি কিনু গোয়ালিনীর গোয়ালে লেলিহান শিখা  চোদ্দ বছরের অনূঢ়া বালিকা রিনি হারিয়ে গিয়েছিল দেনার দায়ে অনেকগুলো বাবা আত্নহত্যা করেছিল। এখন অনাচার না থাকাটাই ডুমুরের ফুল হয়ে উঠেছে। চারপাশে পদদলিত মানুষ, ঝলসানো ঘরবাড়ি কচি মাংস লোলুপ হিংস্র শিকারি তীব্র উল্লাসে আর চাটুকার দালাল পদলেহনকারী হা হা হাসে সব দেখে চোখ বন্ধ করি এখন, যেমন মৃতদেহ করে... ২০ এপ্রিল ২০২২ অলঙ্করণ  সিদ্ধার্থ কর্মকার