Posts

দাবানল

Image
দাবানল দেবব্রত ঘোষ মলয় কিছু বলবো না আগুন জ্বলছে দেখো বাইরে মুখ খুললেই পুড়ে হব ছাইরে মাথা তুলবো না শিরদাঁড়া নুয়ে গেছে যেদিকেই দেখি সব দুর্নীতি ভরা পড়াশোনা না করেই টুকে পাস করা বুড়ি ছুঁয়ে গেছে। আমরা সবাই আজ তুমি আমি আমি তুমি আমাদের সন্তান এই বৃত্তের মাঝে সঁপেছি যে মন প্রাণ প্রতিবাদে নেই কাজ। তবে মুশকিল হলো পড়শির ঘর পোড়ে দাউ দাউ আগুনে কতজন মরে গেল পরিকল্পিত খুনে চোখটা এবার খোলো। আজ বাদে কাল ওই দাবানল গ্রাস করে নেবে সবই যা কিছু আগলে রাখি হয়ে যাবে ছবি থাকবে ছাইয়ের তাল। সময় থাকতে তাই জলভরা বালতিটা হাতে তুলে নাও সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভাও আজ এটুকুই চাই। তা না হলে আগামীর ছোটরাও ছাড়বে না ভাই।

ভালবাসার ভাষা

Image
ছোট গল্প শিল্পী - দীননাথ সাহা ভালবাসার ভাষা দেবব্রত ঘোষ মলয় বৃষ্টিটা হঠাৎই এল। মোবাইল ওয়ালেট থেকে উবেরের ভাড়া মিটিয়ে চোখ কুঁচকে আকাশের দিকে তাকায় জিনিয়া। ল্যান্সডাউন মোড়ে যখন সে শপিং সেরে উবেরে ওঠে, তখন পরিষ্কার নীল আকাশ। এখন দেখল কোথা থেকে একটা কালো মেঘ এসে ঢেকে দিয়েছে নিউটাউনের টুকরো আকাশ। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে সামনের অভিজাত আবাসনের বাইশ তলার ফ্ল্যাটের ভিতর প্রবেশ করে সে। উদ্দালক বড় ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মনোযোগ সহকারে ট্রিমার দিয়ে সেভ করছিল। ডোরবেলের আওয়াজে দরজা খুলে দিয়ে উৎফুল্লস্বরে বলে ওঠে - একি রে, আজ তো মেঘ না চাইতেই জল। তার কথার উত্তর না দিয়ে কাঁধের ব্যাকপ্যাকটা ডিভানের উপর ছুঁড়ে ফেলে মিউজিক সিস্টেমটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় জিনিয়া। ভ্রু কুঁচকে মন দিয়ে শোনে গানটা। উদ্দালক একদৃষ্টে তার মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এইভাবে ভ্রু কুঁচকে তাকানোটা কি জিনিয়ারই সহজাত না সব সুন্দরীরাই এভাবে তাকায়। আচ্ছা এই বিকেল বেলা এসব কি শুনছিস বলতো? - জিনিয়ার গলায় বিরক্তি আঁচ করে উদ্দালক। সে বলে ওঠে, রবীন্দ্রসংগীত ভালো লাগে না তোর। এবার কোমরে হাত দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে জিন...

মিতিন

Image
মিতিন দেবব্রত ঘোষ মলয় তখন হাফপ্যান্ট, মুখের কচি ভাব কাটেনি মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে একা একা ডাসা পেয়ারা লাল ফ্রকের মিতিন মাথায় দুই বিনুনি ঠিক এসে হ্যাঙলামো - এই সোনা, দিবি? দিলাম। মাথায় ঠকাস গাঁট্টা  আর জোর টান বিনুনিতে তারপর ফিরেও দেখলাম না ওর ফুঁপিয়ে কান্না নিষ্পাপ বালকরা তীব্র নিঠুর হয়। ফল মিলল বিকেলেই, গাছ থেকে পড়ে হাত দুখান ছটফট বিছানায়, ডাক্তার কাকু নির্বিকার হাড় ভাঙলে তো লাগবেই, ছি, ছেলেরা কাঁদে নাকি তারপর ঘর ফাঁকা, লাল ফ্রকের মিতিন এসেছে কি অকাতরে মুখে মাথায় বুলিয়ে দেয় হাত ওর বালিকা স্পর্শে ঘুম এসে যায় আধো ঘুমে দেখি চোখ ভরা জল আর মুখে মাখা একরাশ মায়া ... মিতিন হারিয়ে গেছে, হারিয়েছে বাঁশঝাড় বন্ধু মাঠ অষ্টমী অঞ্জলি আজকাল বুঝতেই পারি না তিনটে ওষুধ খেয়ে ঘুমের আশায় জাগি চোখে ভাসে বড় বড় জলভরা মায়ামাখা চোখ ঈশ্বর, একবার ফিরে দাও হাফপ্যান্ট বেলা ...

জনক

Image
এই কবিতাটি নিছকই মজা করে লেখা। আদতে চিরকালই বাবা-মায়ের কাছে ছেলে আর মেয়ে উভয়ই প্রাণাধিক প্রিয়। আবার চিরকালই ছেলে আর মেয়ের কাছে বাবা মা-ই সবকিছু। জনক দেবব্রত ঘোষ মলয় বাবা মানে বদলেছে মন দিয়ে শোনো এ ব্যাপারে ছেলে-মেয়ে ভেদ নেই কোন আদুরে মেয়েটি আজ লক্ষী সোনা বড় আদরের ছেলে স্বপ্নতে বোনা। সে সময় মেয়ের বাবা সে সময়ে মিনতিদি করেছিল প্রেম রাসভারি ওর বাবা বলেছিল শেম দেখবো না মুখ তোর মেয়ে নস তুই বিয়েতে পেল না মেয়ে কোন বস্তুই। আজীবন ওর বাবা রেখেছিল পণ  মেয়েকে ছাড়াই বাঁচে কঠিন সে মন। কেঁদে কেঁদে মরে গেল মিনতির মা নাতি আর পুতি হল দেখা হলো না এ সময় মেয়ের বাবা এ সময়ের এক বাবা নেটফ্লিক্স খোলা ওয়েব সিরিজে ডুবে আগাপাশতলা আদুরে কন্যা এসে গলাটি জড়িয়ে বলে, কে এফ সি চলো ড্যাড মমকেও নিয়ে। গুপ্ত কথাটি ফাঁস হলো ওইখানে পড়ায় বসে না মন বয়ফ্রেন্ড টানে মেয়েকে জড়িয়ে বাবা বলে শোন মেয়ে ভালো করে পাশ কর, ওর মুখ চেয়ে। দুজনেই পাস করে নম্বর ভালো দুজনেই চাকরিতে মুখময় আলো। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল শেষে আমাদেরও ভুরিভোজ বিয়ে বাড়ি এসে। ********** সে সময় ছেলের বাবা সে সময় সিনে...

যদি কোনোদিন

Image
যদি কোনোদিন দেবব্রত ঘোষ মলয় যদি কোনদিন ঘুম ভেঙে উঠে শোনো আমি আর আসব না স্বাভাবিক, ভালোবাসবো না চমকে উঠ না। যদি কোনদিন  কানাঘুষো শুনো আনাচে কানাচে সকালে বেরিয়ে ঘর থেকে আমি নিখোঁজ হয়েছি চিরতরে চমকে উঠো না যদি কোনদিন আস্তাকুড়ের বস্তায় খুঁজে পাও আবর্জনায় লুকিয়ে আমার লেখা কেঁদে চলে চুপি চুপি চোখ ভিজিও না যদি কোনদিন ঝড়ে উড়ে আসে দুটি পাতা সেখানে আমার মলিন হাতের লেখা উপেক্ষা করে চলে যেও অনায়াসে পাতা উল্টিও না যদি কোনদিন শ্রাবণ বিকেলে দুটি ফুল হাতে নিয়ে মনে পড়ে যায় আমার কবিতাখানি ফিরে যেও কাজে অবহেলে তক্ষুনি ঘুম ভাঙ্গিয়ো না। আলোকচিত্র সৈকত কুমার বসু

নদী, গ্রাম প্রকৃতি, মন্দির এবং দূর্গা ঠাকুর আনয়ন

Image
  নদী, গ্রাম প্রকৃতি, মন্দির এবং দূর্গা ঠাকুর আনয়ন  দেবব্রত ঘোষ মলয় আজ মহালয়া। একদম ভোরে ঘুম ভাঙলো মহিষাসুরমর্দিনীর সেই চিরাচরিত মিঠে সুরে। আমাদের বাগানের শিউলি তলায় এখনো সেভাবে শিউলি হয়নি, কিন্তু সেই ভোরেই আমার নাকে কোথা থেকে শিউলির গন্ধ ভেসে এলো। আজ পত্রিকা এবং প্রকাশনের কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। বাড়ির পাশেই আমাদের সোসাইটির পুজো "বন্ধুরা"। পুজোকমিটির প্রথম বছরের প্রথম সভায় সবার সমর্থনে এ নাম আমারই দেওয়া, কারণ আমরা বেশ কিছু বন্ধু একত্রিত হয়ে এই পুজোর সূচনা করি। এ বছর আমাদের প্রতিমা শিল্পী দিব্যেন্দুর স্টুডিও থেকে। ওর স্টুডিও আমতার এক নিরিবিলি গ্রাম সোমেশ্বর সোমনাথ-এ। তরুণ শিল্পী দিব্যেন্দুর বাড়িতে (ওর স্টুডিও গ্যালারি অসেচনক) বেশ কয়েকটি পুজো কমিটির ভিড়, বাড়ির সামনের মাঠটি গাড়িতে গাড়িতে ছয়লাপ। পুরুষ মহিলা মিলিয়ে আমাদের প্রায় ৫০ জন সদস্য উপস্থিত হয়েছিল ঠাকুর আনতে। আমি আমার দাদা এবং আমাদের কমিটির এক সদস্য সিদ্ধার্থ আমার বন্ধু স্বপনের গাড়িতে গিয়েছিলাম। অন্য কমিটিগুলি যখন গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে এক এক করে তাদের প্রতিমাগুলি নিয়ে যাচ্ছে সে সময় আমাদের অপেক্ষা করত...

তবুও শরৎ

Image
তবুও শরৎ দেবব্রত ঘোষ মলয়  বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  টুপ টাপ ঝরে পড়ে হিমেল শিশির দেখো ঘাসের উপর ডানা ঝাপটিয়ে দেখ উড়ে যায় সাদা বক যত  দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত শেষ হয় পালানের বিলে  দুপারেই কচু গাছ উলু ঘাস আর আগাছার ঝোপ ওখানেই খেলা করি আমি হাফপ্যান্ট নেমে যায় দড়ি বাঁধা তাতে ছোট জাল হাতে নিয়ে মাছ ধরে পুঁটি, রুখু চুল চূড়া করে বাঁধা  এখানেই আটকিয়ে আমার বয়স, জটিল এ পৃথিবীর এ কেমন ধাঁধা ... বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  শরৎ সকালে মৃদু হিম পড়ে, সেজে ওঠে শিউলি তলা ঘুম ভেঙে খালি পায়ে দৌড়ে বেড়াই, দেখি শিউলি কুড়িয়ে আনে আমার বালিকা ...টেপ ফ্রক গায়ে হারানকাকার হাত দূর্গা বানায় ... চণ্ডী তলায় সে টাকায় কিনবে কি ওষুধ না ভাত আজ বলে সেইসব মধুকাকা বোল তোলে ঢাকে, এবার বায়না হলো দু বছর পর দুবছরে ভেঙে গেছে সংসার ... তছনছ হল কত ঘর ... তবুও শরৎ আসে নীল মেঘ কাশফুল সোনা রোদে ভাসে চরাচর ... শিল্পী দীননাথ সাহা