Posts

Showing posts from September, 2022

নদী, গ্রাম প্রকৃতি, মন্দির এবং দূর্গা ঠাকুর আনয়ন

Image
  নদী, গ্রাম প্রকৃতি, মন্দির এবং দূর্গা ঠাকুর আনয়ন  দেবব্রত ঘোষ মলয় আজ মহালয়া। একদম ভোরে ঘুম ভাঙলো মহিষাসুরমর্দিনীর সেই চিরাচরিত মিঠে সুরে। আমাদের বাগানের শিউলি তলায় এখনো সেভাবে শিউলি হয়নি, কিন্তু সেই ভোরেই আমার নাকে কোথা থেকে শিউলির গন্ধ ভেসে এলো। আজ পত্রিকা এবং প্রকাশনের কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। বাড়ির পাশেই আমাদের সোসাইটির পুজো "বন্ধুরা"। পুজোকমিটির প্রথম বছরের প্রথম সভায় সবার সমর্থনে এ নাম আমারই দেওয়া, কারণ আমরা বেশ কিছু বন্ধু একত্রিত হয়ে এই পুজোর সূচনা করি। এ বছর আমাদের প্রতিমা শিল্পী দিব্যেন্দুর স্টুডিও থেকে। ওর স্টুডিও আমতার এক নিরিবিলি গ্রাম সোমেশ্বর সোমনাথ-এ। তরুণ শিল্পী দিব্যেন্দুর বাড়িতে (ওর স্টুডিও গ্যালারি অসেচনক) বেশ কয়েকটি পুজো কমিটির ভিড়, বাড়ির সামনের মাঠটি গাড়িতে গাড়িতে ছয়লাপ। পুরুষ মহিলা মিলিয়ে আমাদের প্রায় ৫০ জন সদস্য উপস্থিত হয়েছিল ঠাকুর আনতে। আমি আমার দাদা এবং আমাদের কমিটির এক সদস্য সিদ্ধার্থ আমার বন্ধু স্বপনের গাড়িতে গিয়েছিলাম। অন্য কমিটিগুলি যখন গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে এক এক করে তাদের প্রতিমাগুলি নিয়ে যাচ্ছে সে সময় আমাদের অপেক্ষা করত...

তবুও শরৎ

Image
তবুও শরৎ দেবব্রত ঘোষ মলয়  বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  টুপ টাপ ঝরে পড়ে হিমেল শিশির দেখো ঘাসের উপর ডানা ঝাপটিয়ে দেখ উড়ে যায় সাদা বক যত  দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত শেষ হয় পালানের বিলে  দুপারেই কচু গাছ উলু ঘাস আর আগাছার ঝোপ ওখানেই খেলা করি আমি হাফপ্যান্ট নেমে যায় দড়ি বাঁধা তাতে ছোট জাল হাতে নিয়ে মাছ ধরে পুঁটি, রুখু চুল চূড়া করে বাঁধা  এখানেই আটকিয়ে আমার বয়স, জটিল এ পৃথিবীর এ কেমন ধাঁধা ... বয়স বাড়ে না আর কোনদিনই কবে থেকে যেন  শরৎ সকালে মৃদু হিম পড়ে, সেজে ওঠে শিউলি তলা ঘুম ভেঙে খালি পায়ে দৌড়ে বেড়াই, দেখি শিউলি কুড়িয়ে আনে আমার বালিকা ...টেপ ফ্রক গায়ে হারানকাকার হাত দূর্গা বানায় ... চণ্ডী তলায় সে টাকায় কিনবে কি ওষুধ না ভাত আজ বলে সেইসব মধুকাকা বোল তোলে ঢাকে, এবার বায়না হলো দু বছর পর দুবছরে ভেঙে গেছে সংসার ... তছনছ হল কত ঘর ... তবুও শরৎ আসে নীল মেঘ কাশফুল সোনা রোদে ভাসে চরাচর ... শিল্পী দীননাথ সাহা 

শিক্ষক দিবস

শিক্ষক দিবস এবং কয়েকটি কথা দেবব্রত ঘোষ মলয় আমি শিক্ষক হইনি। যদিও সে সম্ভাবনা ছিল ছোট থেকেই। তখন নবম শ্রেণী। বাড়িতে অভাব। সে সময় অনেক বাড়িতেই এরকম হতো। তখন স্কুলে নামমাত্র মাইনে ছিল সেটাও তিনমাস বাকি পড়ে গেল। বাবার অফিস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, হেডস্যার ডেকে বললেন - মন দিয়ে পড়াশোনা কর, এখন থেকে হাফ ফ্রিতে পড়াশোনা করবি। অর্থাৎ ওই সামান্য বেতনেরও অর্ধেক মাস্টারমশায় মুকুব করে দিলেন। মন দিয়ে পড়াশোনা করতাম, তবে পাঠ্যপুস্তক ততটা নয়, যতটা নানা ধরনের সাহিত্যের বই। সে প্রসঙ্গ অন্য সময়। সে সময়ে আমার বন্ধুরাও কেউ কেউ টিউশনি করে। একজন বলল - "তুই একটা টিউশনি করবি।" আমি তো এক পায়ে খাড়া। তখনো পর্যন্ত নিজের রোজগার বলতে একমাত্র স্কুলে এনসিসি করে অল্প কটা টাকা হাতে এসেছিল। সেটা সম্ভবত ওই এনসিসির পোশাকের মেইনটেনেন্স এর জন্য। সে কি আনন্দ আমার আর আমার পিঠ পিঠি ভাইয়ের। স্কুলের ঠিক উল্টো দিকেই তখন পাড়ার একমাত্র মিঠাই এর দোকান। দুজনে মিলে কাঁচের শোকেস থেকে বেছে বেছে পাঁচটা ছয়টা করে মিষ্টি খেয়েছিলাম নানা রকম। এখনকার ছোটরা না চাইতেই কি সহজে সবকিছু পেয়ে যায়, তারা কল্পনাও করতে পারবে না ...

স্বপ্ন কিশোর

Image
শিল্পী দীননাথ সাহা  স্বপ্ন কিশোর দেবব্রত ঘোষ মলয় মেঘলা আকাশ বিষন্ন দিন জল থৈ থৈ পথ আকাশ পানে তাকিয়ে রই আসবে সোনার রথ রথের মাঝে রাজকন্যা তার খোঁপায় বাঁধা ফুল কুচবরণ রূপের বাহার মেঘবরণ চুল। আলুক শালুক ঘোষের তালুক দুষ্টু কিশোর ছেলে মাঠভরা ধান সোনা রঙের এমন কোথায় মেলে সেই তো আমার গ্রাম আমার জন্মভূমি দেশ তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বলে ধুপের ধোঁয়ার রেশ পদ্ম দীঘি চন্ডীতলা মস্ত বাগান আম হ্যাচাক জলে যাত্রা আসর রাবণ এবং রাম স্কুলের শেষে খেলার মাঠে, পড়ব সাঁঝে অল্প রাত্রিবেলা দিদির পাশে শুনব ভুতের গল্প এইতো আমার গ্রাম আমার স্বর্গ বালক বেলা পাশের বাড়ির ছুটির সাথে মিষ্টি মধুর খেলা। এখন জীবন বিকেল বেলা কাঁদছে শহর ক্লান্ত মায়ের আদর বাবার স্নেহ ভালোবাসাও ম্লান তো। স্বপ্নে খুঁজি ছোটবেলা জেগেই বুঝি ভ্রান্ত। @০৩০৯২০২২