Posts

Showing posts from June, 2023

দাবানল

Image
দাবানল দেবব্রত ঘোষ মলয় কিছু বলবো না আগুন জ্বলছে দেখো বাইরে মুখ খুললেই পুড়ে হব ছাইরে মাথা তুলবো না শিরদাঁড়া নুয়ে গেছে যেদিকেই দেখি সব দুর্নীতি ভরা পড়াশোনা না করেই টুকে পাস করা বুড়ি ছুঁয়ে গেছে। আমরা সবাই আজ তুমি আমি আমি তুমি আমাদের সন্তান এই বৃত্তের মাঝে সঁপেছি যে মন প্রাণ প্রতিবাদে নেই কাজ। তবে মুশকিল হলো পড়শির ঘর পোড়ে দাউ দাউ আগুনে কতজন মরে গেল পরিকল্পিত খুনে চোখটা এবার খোলো। আজ বাদে কাল ওই দাবানল গ্রাস করে নেবে সবই যা কিছু আগলে রাখি হয়ে যাবে ছবি থাকবে ছাইয়ের তাল। সময় থাকতে তাই জলভরা বালতিটা হাতে তুলে নাও সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভাও আজ এটুকুই চাই। তা না হলে আগামীর ছোটরাও ছাড়বে না ভাই।

ভালবাসার ভাষা

Image
ছোট গল্প শিল্পী - দীননাথ সাহা ভালবাসার ভাষা দেবব্রত ঘোষ মলয় বৃষ্টিটা হঠাৎই এল। মোবাইল ওয়ালেট থেকে উবেরের ভাড়া মিটিয়ে চোখ কুঁচকে আকাশের দিকে তাকায় জিনিয়া। ল্যান্সডাউন মোড়ে যখন সে শপিং সেরে উবেরে ওঠে, তখন পরিষ্কার নীল আকাশ। এখন দেখল কোথা থেকে একটা কালো মেঘ এসে ঢেকে দিয়েছে নিউটাউনের টুকরো আকাশ। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে সামনের অভিজাত আবাসনের বাইশ তলার ফ্ল্যাটের ভিতর প্রবেশ করে সে। উদ্দালক বড় ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মনোযোগ সহকারে ট্রিমার দিয়ে সেভ করছিল। ডোরবেলের আওয়াজে দরজা খুলে দিয়ে উৎফুল্লস্বরে বলে ওঠে - একি রে, আজ তো মেঘ না চাইতেই জল। তার কথার উত্তর না দিয়ে কাঁধের ব্যাকপ্যাকটা ডিভানের উপর ছুঁড়ে ফেলে মিউজিক সিস্টেমটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় জিনিয়া। ভ্রু কুঁচকে মন দিয়ে শোনে গানটা। উদ্দালক একদৃষ্টে তার মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এইভাবে ভ্রু কুঁচকে তাকানোটা কি জিনিয়ারই সহজাত না সব সুন্দরীরাই এভাবে তাকায়। আচ্ছা এই বিকেল বেলা এসব কি শুনছিস বলতো? - জিনিয়ার গলায় বিরক্তি আঁচ করে উদ্দালক। সে বলে ওঠে, রবীন্দ্রসংগীত ভালো লাগে না তোর। এবার কোমরে হাত দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে জিন...

মিতিন

Image
মিতিন দেবব্রত ঘোষ মলয় তখন হাফপ্যান্ট, মুখের কচি ভাব কাটেনি মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে একা একা ডাসা পেয়ারা লাল ফ্রকের মিতিন মাথায় দুই বিনুনি ঠিক এসে হ্যাঙলামো - এই সোনা, দিবি? দিলাম। মাথায় ঠকাস গাঁট্টা  আর জোর টান বিনুনিতে তারপর ফিরেও দেখলাম না ওর ফুঁপিয়ে কান্না নিষ্পাপ বালকরা তীব্র নিঠুর হয়। ফল মিলল বিকেলেই, গাছ থেকে পড়ে হাত দুখান ছটফট বিছানায়, ডাক্তার কাকু নির্বিকার হাড় ভাঙলে তো লাগবেই, ছি, ছেলেরা কাঁদে নাকি তারপর ঘর ফাঁকা, লাল ফ্রকের মিতিন এসেছে কি অকাতরে মুখে মাথায় বুলিয়ে দেয় হাত ওর বালিকা স্পর্শে ঘুম এসে যায় আধো ঘুমে দেখি চোখ ভরা জল আর মুখে মাখা একরাশ মায়া ... মিতিন হারিয়ে গেছে, হারিয়েছে বাঁশঝাড় বন্ধু মাঠ অষ্টমী অঞ্জলি আজকাল বুঝতেই পারি না তিনটে ওষুধ খেয়ে ঘুমের আশায় জাগি চোখে ভাসে বড় বড় জলভরা মায়ামাখা চোখ ঈশ্বর, একবার ফিরে দাও হাফপ্যান্ট বেলা ...

জনক

Image
এই কবিতাটি নিছকই মজা করে লেখা। আদতে চিরকালই বাবা-মায়ের কাছে ছেলে আর মেয়ে উভয়ই প্রাণাধিক প্রিয়। আবার চিরকালই ছেলে আর মেয়ের কাছে বাবা মা-ই সবকিছু। জনক দেবব্রত ঘোষ মলয় বাবা মানে বদলেছে মন দিয়ে শোনো এ ব্যাপারে ছেলে-মেয়ে ভেদ নেই কোন আদুরে মেয়েটি আজ লক্ষী সোনা বড় আদরের ছেলে স্বপ্নতে বোনা। সে সময় মেয়ের বাবা সে সময়ে মিনতিদি করেছিল প্রেম রাসভারি ওর বাবা বলেছিল শেম দেখবো না মুখ তোর মেয়ে নস তুই বিয়েতে পেল না মেয়ে কোন বস্তুই। আজীবন ওর বাবা রেখেছিল পণ  মেয়েকে ছাড়াই বাঁচে কঠিন সে মন। কেঁদে কেঁদে মরে গেল মিনতির মা নাতি আর পুতি হল দেখা হলো না এ সময় মেয়ের বাবা এ সময়ের এক বাবা নেটফ্লিক্স খোলা ওয়েব সিরিজে ডুবে আগাপাশতলা আদুরে কন্যা এসে গলাটি জড়িয়ে বলে, কে এফ সি চলো ড্যাড মমকেও নিয়ে। গুপ্ত কথাটি ফাঁস হলো ওইখানে পড়ায় বসে না মন বয়ফ্রেন্ড টানে মেয়েকে জড়িয়ে বাবা বলে শোন মেয়ে ভালো করে পাশ কর, ওর মুখ চেয়ে। দুজনেই পাস করে নম্বর ভালো দুজনেই চাকরিতে মুখময় আলো। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল শেষে আমাদেরও ভুরিভোজ বিয়ে বাড়ি এসে। ********** সে সময় ছেলের বাবা সে সময় সিনে...