ছুটি
ছুটি
দেবব্রত ঘোষ মলয়
আমি কবিতাকে ছুটি দিয়েছিলাম স্বেচ্ছায়
বলেছিলাম, এবার আমায় নিষ্কৃতি দাও, ছুটি দাও
চারপাশে যাই ঘটুক আমার আর কোন দায় নেই
বালিতে মুখ গুঁজে থাকতে থাকতে আমি উট পাখি হয়ে গেছি
পালক থেকে ঝাপটা মেরে ঝেড়ে ফেলেছি সব জল।
কবিতা মৃদু হেসে, প্রশ্রয়ের সুরে আমায় বিদায় জানায়
তারপর খোলা আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ বেলাভূমির আড়ালে উধাও হয়ে যায়
ঢেউ ভেঙে আসে অনেক অনেক দূর থেকে
ফিরে আসা তার তীব্র গর্জনে চমকে যায় কাঁকড়ার দল
আমিও ফিরে আসি মাথা নিচু করে
এরপর বেলাবৌদি ধীরে ধীরে ভুলে যায় তার আত্মহত্যা করা কিশোর ছেলেকে
পড়াশোনায় মন না দেওয়ার জন্য বকার কথাও ভুলে যায়
টুকটুকি আবার ফিরে আসে বাপের বাড়ি
বখাটে ছেলেটা তিন মাস ভোগ করে ওকে ছেড়ে দিয়েছে
ওর মা বকেনি, জল ভরা চোখে বুকে টেনে নিয়েছে।
হারাম কাকার পা আর ঠিক হয়নি
একটা ভ্যান রিক্সা নিয়ে হাই রোডে ওঠার যে কি দরকার ছিল
কত বড় লরিটা ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল
হারানকাকা কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি
পাকাপাকি ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল কাজের পা হারিয়ে।
গোপালদা সুকান্তর সঙ্গে অত ঝগড়া না করলেই পারতো
সেইতো ছেলের বিয়ে ওর মেয়ের সাথেই দিতে হলো
এখন বিয়ের মাত্র তিন বছরের মাথায়
দুই বাবাই নিঝুম একা হয়ে পড়ল
নববিবাহিত দম্পতি বাবা-মাকে ছেড়ে চলে গেল।
এখন শুধু খারাপ খবর আসে
কম বয়সী জলজ্যান্ত ছেলেগুলো তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়
তারা পড়াশোনা করে অথচ চাকরি পায় না
যদিবা চাকরি পায় রাত জেগে কাজ করে প্রবাসে
হৃদরোগ কি দূষণ বেড়েছে বলেই এত বেশি
দশমীর পর বড় একা লাগে
নিঝুম রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি আমি
একরাশ মন খারাপ ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলে আমায়
এত কান্না পাওয়ার কোন কারণ খুঁজে পাই না
আবার চিরাচরিত বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়ি
কত কি দেখতে পাই চার পাশে তাকিয়ে
স্বমেহন শুধু অবিবাহিত ছেলেরাই করেনা
মঞ্চে জ্বালাময়ী ভাষণ দেওয়া প্রৌঢ় নেতাও একা ঘরে
নিঝুম রাত্রে ডুবে যায় ডুবে যায় ডুবে যায়
এত প্রতাপশালী হয়েও আত্মরতি ছাড়া কিছুই থাকে না তার
আমি খুশি খুঁজে ফিরি
অথচ চার দিকে তাকিয়ে খুঁজে পাই শুধু বিষাদ হাহাকার কান্না
ডিজে চালিয়ে উদ্দাম নাচছে যে যুবক
আমি তার চোখে জল দেখি
উল্লাস এ সময়ে ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার অজুহাত মাত্র
আমি হাহাকার করে কেঁদে বলি ছুটি ভেঙে ফিরে এসো কবিতা ...
Comments
Post a Comment